
|| আজিজুল হক | ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কালজানি নদীভাঙন কবলিত উত্তর ধলডাঙ্গা ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। শনিবার (৬ জুন) তিনি সরেজমিনে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।

জেলা প্রশাসকের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুর রহমান তারেক এবং চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
এ সময় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম ইয়াছিন কালজানি ও দুধকুমার নদীর ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা, তিলাই ইউনিয়নের খোচাবাড়ীর চর, সদর ইউনিয়নের নলেরচর এবং বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া-কালিরহাট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা জরুরি। ইতোমধ্যে নদীভাঙনের কারণে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ঘর নির্মাণ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান তিনি।
দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে ঢেউটিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, এর আগে নদীভাঙন রোধে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াছিন ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুব জেলা প্রশাসকের কাছে জিও ব্যাগ বরাদ্দের আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইউসুব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নদীভাঙনের শিকার বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী।
জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগ ও দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।
