
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নদীবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নে হালিমা খাতুন (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাতে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পদ্মারচর (পাগলার বাজার) এলাকায় নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এতটুকু শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে এটি ‘হত্যা নাকি আত্মহত্যা’ তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত হালিমা খাতুন পদ্মারচর এলাকার পাগলার বাজার নামক স্থানের হেলাল মন্ডলের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার সারাদিন সে তার দাদা-দাদীর সাথে পাশের বাজারে তাদের হোটেলের ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল। সন্ধ্যার দিকে সে ‘বাইরে থেকে আসছি’ বলে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পার হলেও দোকানে ফিরে না আসায় তার দাদী বেইলা বেগম আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ ঘরে গিয়ে তিনি হালিমাকে ধরনার সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।
তার চিৎকারে হালিমার দাদা আরমান মন্ডল, চাচা জিয়াউর রহমান জিয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এসে ঝুলন্ত মরদেহটি নিচে নামান। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য, চৌকিদার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “রাতে খবর পাওয়ার পরপরই আমি কচাকাটা থানাকে বিষয়টি অবহিত করি। শনিবার সকালে পুলিশ এসে প্রাথমিক সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত হালিমার বাবা হেলাল মন্ডল উপার্জনের তাগিদে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন। ঈদের আগে বাড়িতে এসে চারদিন পূর্বে তিনি আবারও কর্মস্থলে ফিরে যান। তার মা আমেলা বেগম দুই বছর আগে স্বামীর সংসার বিচ্ছেদ করে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। এরপর থেকে হালিমা তার দাদা-দাদীর সঙ্গেই থাকত। দুইবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে পরিবারটি বর্তমানে সরকারি আবাসনের জায়গায় টিনের ঘর তুলে বসবাস করছে।
ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখা প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের মেম্বার কবিরুল ইসলাম কবির সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “এতটুকু ছোট মেয়ের কাজ এটি হতে পারে না। এর পেছনে কোনো কুচক্রী মহলের হাত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অর্পণ কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল কার্যক্রম শেষ করে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নৌকাযোগে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ০৬ জুন তারিখে কচাকাটা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন নিহতের চাচা জিয়াউর রহমান। যার মামলা নম্বর- ৫। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
