রবিবার, জুন ৭

রামিসা হত্যা মামলা: চার কার্যদিবসের বিচার শেষে রায় পড়া শুরু

|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক |

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। আজ রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় পড়া শুরু করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না খাতুনকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। রায় পড়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (৭ জুন) নির্ধারণ করেন। গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। পরদিন ২ জুন মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। এরপর ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। এ সময় আসামি স্বপ্না খাতুন কৌশলে রামিসাকে তাদের বাসায় ডেকে নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেল ও স্বপ্নার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের একটি বড় বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

ভীতিকর এই ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় গত ২০ মে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুটির বাবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *