
|| বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি ||
বরিশালের বানারীপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয় শালিস মীমাংসার পরও এক প্রবাসী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার বিরুদ্ধে। এছাড়া রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে প্রবাসীদের পরিবারকে মিথ্যা রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বেচাকেনাসহ স্বজনদের জমি দখলের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়ার জেএল ৪২ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৯৪ ও ৫৯১ (হাল ৫৯৭ ও ৫৮৯) দাগে ২৪ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন মোল্লা। একই দাগে দুটি দলিলে সাব-কবলা মূলে ৩১ শতক জমি ক্রয় করেন প্রতিবেশী গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা। দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মঞ্জু মোল্লা গত ৪৪ বছর ধরে তাদের চার শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার স্থানীয় শালিসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বারেকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। থানা পুলিশের নির্দেশে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার (আমিন), সরকারি সার্ভেয়ার ও বানারীপাড়া ভূমি অফিসের কানুনগোর উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে দেখা যায়, মঞ্জু মোল্লা আলী হোসেন মোল্লার ক্রয়কৃত অংশের ৩ শতক জমি অতিরিক্ত দখল করে রেখেছেন। এরপর মঞ্জু মোল্লার সম্মতিক্রমে শালিসদাররা আলী হোসেনদের ৩ শতক জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে পাকা পিলার স্থাপন করে দেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, শালিসে সমাধান হওয়ার মাত্র দুই দিন পর গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলী হোসেন ও তার প্রবাসী ছেলেদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করেন।
মামলার সাক্ষী ও বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গৌতম সমাদ্দার বলেন, “এ মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মঞ্জু সাহেব আমাকে না জানিয়েই সাক্ষী করেছেন। যতটুকু জানি, বিষয়টি স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে সমাধান হয়ে গিয়েছিল।”
আলী হোসেন মোল্লার ছেলে আতিক মোল্লা জানান, “আমরা ভাই-বোনেরা প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে প্রবাসে থাকি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন। ছুটিতে দেশে এসে দেখি মঞ্জু চাচা আমাদের জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নিচ্ছেন। বাধা দিলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে জমি মেপে সমাধান হলেও তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমাদের পরিবারকে একটি রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। মূলত তিনি একজন ভূমিদস্যু।”
প্রবাসী পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, “সামাজিক ও রাজনৈতিক কিছু ব্যাপার থাকে, তাই মামলা করেছি।” এর বেশি কোনো মন্তব্য না করে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে সরজমিনে অনুসন্ধানে মঞ্জু মোল্লার বিরুদ্ধে আরও একাধিক দখলের অভিযোগ উঠে এসেছে। তার মৃত ছোট ভাই ফারুকের স্ত্রী ও দুই কন্যার প্রাপ্য সম্পত্তি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি চান্দিনা ভিটি নিজ নামসহ আত্মীয়-স্বজনদের নামে বরাদ্দ নিয়ে পরবর্তীতে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতা সত্য নারায়ণ এ কেনাবেচার কথা স্বীকার করেছেন।
সরকারি চান্দিনা ভিটি বিক্রির বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, সরকারি সম্পত্তি কারো কাছে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। হয়তো তাদের লিজ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
