রবিবার, মে ১৭

নাগেশ্বরীতে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙ্গে পড়ে আছে কচুয়া ব্রীজ: দুর্ভোগে দুই পাড়ের মানুষ

‎|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের ‎নাগেশ্বরীতে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙ্গে পড়ে আছে ভিতরবন্দ নন্দনপুর-কলীগঞ্জ গোড্ডারারপাড় গ্রামীণ সড়কে কচুয়া বিলের উপর নির্মিত ব্রীজটি। পাড়াপাড়ের দুর্ভোগে পড়েছেন বিলের দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষ।

‎জানা গেছে, ভিতরবন্দ নন্দনপুরে বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কচুয়া বিল। শীতকালে চারপাশ শুকিয়ে গেলেও মূল অংশে তলানীতে থাকে পানি। আর এ অংশটি পড়েছে ভিতরবন্দ নন্দনপুর-কলীগঞ্জ গোড্ডারারপাড় গ্রামীণ সড়কের মাঝে। অনেক আগে এ পথে হাটা পায়ে হাটু পানি পাড়ি দিয়ে যাতাযাত করত দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষ। বর্ষায় পানিপূর্ণ হলে বন্ধ হয়ে যেত তাদের চলাচল। উপযোগিতা বিবেচনায় দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে ১৯৮৭ সালে এখানে ২০ ফুট দৈর্ঘের একটি ত্রাণের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পরের বছর বন্যার পানির তোড়ে সেটি ভেঙ্গে ভেসে যায়। এরপর ২০০১ সালে ফের সেখানে একই দৈর্ঘ্যের ত্রাণের আর একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। সেটিও ২০০৬ এর ভয়াবহ বন্যায় ভেঙ্গে যায়। স্থায়ী দুর্ভোগে পড়েন এ পথে যাতাযাতকারী মানুষ। পরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে ব্রীজের উপর একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিছুদিন মানুষজন সেটি ধরে নির্বিঘ্নে যাতাযাত করলেও দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টিতে কাঠ পচে নষ্ট হতে থাকে। অনেক জায়গায় ভেঙ্গে যায় কাঠের পাটাতন। মাঝে মাঝে সামান্য সংস্কার হলেও বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। হেটে সাবধানে চলাচল করা গেলেও যানবাহন নিয়ে চলার কোন উপায় নেই। আর কয়েকদিন পরে হয়ত হাটাপায়ে চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে। পাড়াপাড়ের স্থায়ী দুর্ভোগে পড়বেন এলাকাবাসী। অথচ প্রথম ও দ্বিতীয়বার কচুয়া ব্রীজ নির্মাণ হলে পথের দুরত্ব কমাতে শর্টকাট বিবেচনায় এটি ধরে নাগেশ্বরী যাতাযাত করত কালীগঞ্জ, কেদার, কচাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন। এখন তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরে আসতে হবে।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, মজিবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন, হাসেম আলী, রমেশসহ অনেকেই জানান, কাঠের সাঁকোটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে গেছে। ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করা যায় না। অসুস্থ্য রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে কয়েক কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়ক পাড়ি দিতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাটাতনের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিতে প্রয়োজনীয় কাচামাল, সার, ধানচাল পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সবদিক বিবেচনায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ জরুরী। দ্রুত সেখানে একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান তারা।

‎ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি জানান, বর্ষায় উজানের ডায়না, কুমড়িয়া বিল থেকে নেমে আসা পানি তীব্র স্রোতে ভিতরবন্দ নন্দনপুরের কচুয়া বিল দিয়ে কালীগঞ্জ গোড্ডারারপাড়, মাধাইখাল ও মন্নেয়ারপাড় কুড়া হয়ে প্রমত্তা দুধকুমারে মিশে যায়। ফলে এ কচুয়া বিলে ২০-৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ফুট ব্রীজ কোনভাবে টিকে না। পানির তীব্র স্রোতে তা ভেঙ্গে ভেসে যায়। এখানে দরকার ৪০-৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রীজ।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায় বরাদ্ধ না থাকায় তাদের পক্ষে ৫০-৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ বলেছে এ সড়কটি তাদের তালিকাভুক্ত নয়| তাই সেখানে একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের উপযোগিতা থাকলেও তা আটকে আছে।

‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখকারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সেখানে যে কাঠের সাঁকোটি আছে তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট। ত্রাণের যে বক্সকালভার্ট হয় তার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৪০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্রাণের ব্রীজ টিকসই হবে না। তাই সেখানে এলজিইডি থেকে কাঠের সাঁকোর দৈর্ঘ্যের সমপরিমাণ একটি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করলে স্খায়ী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *