Sunday, September 20

দুধ উৎপাদনে তিসি বীজ ও লাইভ ইস্টের সুফল

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

দুগ্ধজাত গাভীর দুধ উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়াতে তিসি বীজ ও লাইভ ইস্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে আজ ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ তিসি বীজ ও লাইভ ইস্ট খাওয়ানোর মাধ্যমে দুগ্ধজাত গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন’। সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল মানুষের জীবনে সরাসরি উপকারে আসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি খাতে আরও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, গবেষণার সুফল যেন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে মান বাড়ানো গেলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং খুলনা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম।

গবেষণায় জানানো হয়, দেশের গ্রামাঞ্চলে গাভী পালন করে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যের অভাবে দুধের উৎপাদন ও মান এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ সমস্যা সমাধানে পুষ্টিজৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লাইভ ইস্ট গাভীর রুমেনে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায়। অন্যদিকে তিসি বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দুধের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

প্রতিদিন গাভীর খাদ্যে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম তিসি বীজ যোগ করলে দুধ উৎপাদন গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। খুলনা অঞ্চলে পরিচালিত গবেষণায় দুধ উৎপাদন ৮.৫৫ কেজি থেকে বেড়ে ১০.৪৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে দুধে প্রোটিন, ফ্যাট ও মোট সলিডসের পরিমাণ বাড়ায় বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পায়।

কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *