Sunday, August 9

চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে দুটি মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার দুটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী চিলমারীর কাঁচকোল এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি নদীভাঙন রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে চলমান দুটি প্রকল্পের একটি প্রায় ৯০০ কোটি এবং অন্যটি ৮০০ কোটি টাকার। এ প্রকল্পগুলো যদি ব্লক দিয়ে সম্পন্ন করা যায়, তবে নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা ব্রহ্মপুত্রের তীরে চলমান প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”

নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাঁধ নির্মাণে সবাই উপকৃত হবেন। নদীভাঙন দেখার সময় কে কোন দল করে, তা দেখা হবে না। সরকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার বা ঠিকাদারের ওপর সব ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বস্তা ফেলা বা ওজনের বিষয়ে অনিয়মের সুযোগ নেই, এগুলো জনগণের টাকার কাজ, তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এটি একটি বড় প্রকল্প যা একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কাজ শুরু করা হবে।”

প্রতিদিন নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানো মানুষের পাশে সরকার আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে এবং ঝুঁকি বিবেচনায় জিওব্যাগসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী নৌপথে চিলমারীর কাঁচকোল, উলিপুরের নামাজের চর, রৌমারীর সুখেরবাতি ও রাজীবপুরের কোদালকাটি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো পরিদর্শনে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *