রবিবার, মে ৩

কী আছে ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে?

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৪ দফার নতুন প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক এবার সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করার কথা জানালেও এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই তেহরান এই ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে মাত্র দুই মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো সাময়িক বিরতি নয়, বরং দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি চায়।

ইরানের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব ধরনের অমীমাংসিত ইস্যু ও বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। এই নির্দিষ্ট সময়সীমাকে সামনে রেখেই একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি কাঠামো গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরানের দেওয়া ১৪ দফার এই শান্তি প্রস্তাবে মূলত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না—এমন স্থায়ী নিশ্চয়তা প্রদান।
  • ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
  • বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানের স্থগিত বা ফ্রোজেন করা সমস্ত আর্থিক সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করা।
  • ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
  • চলমান যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
  • লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ ও শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
  • কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষকে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধের অবসান ঘটবে এবং ইরান ও লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত হবে।

এছাড়া বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই প্রাথমিক চুক্তিগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী এক মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব শুধুমাত্র সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনার এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে তেহরানের এই প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে শুরুতেই নেতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, “ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, তা আমি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি মনে করতে পারছি না। কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা মানবতা ও বিশ্বের যা ক্ষতি করেছে, তার জন্য তারা এখনও পর্যাপ্ত মূল্য পরিশোধ করেনি।”

সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *