
|| ধর্ম ডেস্ক | আলোকিত দৈনিক ||
আজ পবিত্র জিলহজ্ব মাসের ১৭ তারিখ। হিজরি বর্ষের শেষ মাস জিলহজ্বের এই দিনগুলোতে ঈদের আমেজ কাটিয়ে আমরা আবার স্বাভাবিক কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরছি। এই ব্যস্ততার মাঝেও পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। আর পরকালীন যাত্রার প্রথম ধাপই হলো কবর। আজকের দিনে আমরা আলোচনা করব পবিত্র কোরআনের এমন একটি সূরা নিয়ে, যা নিয়মিত আমল করলে কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব—আর সেটি হলো সুরা আল-মুলক।
সুরা মুলকের পরিচয় ও গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনের ৬৭তম সুরা এটি। ২৯তম পারার প্রথম এই সুরাটিতে মোট ৩০টি আয়াত, ৩৩০টি শব্দ এবং ১৩০০টি অক্ষর রয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরাটিতে মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য এবং পরকালের জবাবদিহিতার চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের আলোকে সুরা মুলক
এই সুরার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক হাদিসে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন:
- ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“কোরআনে এমন ৩০ আয়াতের একটি সুরা আছে, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সুরাটি হলো ‘তাবা-রাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক’ (সুরা মুলক)।” (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০)
- কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা মুলক তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন।” (সুনানে নাসায়ি)- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত অভ্যাস: জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা আলিফ লাম মিম তানজিল (সুরা সাজদাহ) এবং সুরা তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতে যেতেন না। (জামে তিরমিজি: ২৮৯২)
সুরা মুলকের মূল শিক্ষা
১. সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর: সুরার প্রথম আয়াতেই বলা হয়েছে, সব রাজত্ব ও ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
২. জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষা: মানুষের জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো—কে আমলের দিক থেকে উত্তম, তা পরীক্ষা করা (আয়াত: ২)।
৩. সৃষ্টিজগতের নিখুঁততা: আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো খুঁত বা অসঙ্গতি নেই।আমাদের করণীয়: আজকের দিনের আমল
আজ ১৭ জিলহজ্বের এই বরকতময় দিনে আমরা সুরা মুলককে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করার দৃঢ় নিয়ত করতে পারি:
- রাতের আমল: প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সুরা মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা। মাত্র ৭ থেকে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করেই এই বিশাল নেকি অর্জন সম্ভব।
- অর্থ বুঝে পড়া: কেবল রিডিং না পড়ে, অন্তত সপ্তাহে একদিন এই সুরার ৩০টি আয়াতের বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির অনুধাবন করা।
- মুখস্থ করার চেষ্টা: সুরাটি আকারে ছোট হওয়ায় প্রতিদিন ১ বা ২ আয়াত করে মুখস্থ করলে ১৫-২০ দিনেই পুরো সুরাটি মুখস্থ করা সম্ভব।
উপসংহার:
মৃত্যু আমাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী। জিলহজ্বের এই দিনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আসুন, আজ রাত থেকেই সুরা মুলক তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের কবরের অন্ধকার জীবনকে আলোকিত করার আমল শুরু করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিয়মিত সুরা মুলক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
