
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) গোপন হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত মাসের শুরুর দিকে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় আবুধাবি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ফলে ওই শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং স্থাপনাটি অচল হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এমন এক সময়ে এই গোপন হামলা চালানো হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
জানা গেছে, তেহরান এ পর্যন্ত আমিরাত লক্ষ্য করে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলের ওপর চালানো হামলার সংখ্যার চেয়েও বেশি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সামরিক সম্পৃক্ততাকে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে স্বাগত জানিয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। ক্রমাগত ইরানি হামলার ফলে আমিরাতের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।
উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানকে এখন একটি ‘বেপরোয়া শক্তি’ হিসেবে দেখছে আবুধাবি। হামলার বিষয়ে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তারা জানিয়েছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আরব দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
