
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
প্রচণ্ড খরা আর ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির আবারও চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ দাবদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশজুড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে তাঁদের চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে কেবল জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী মোতায়েন রয়েছে।
আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারই নতুন করে ১৪টি স্থানে আগুন জ্বলে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর। এছাড়া পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের শিখা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরীর প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাছে চলে এসেছিল আগুনের শিখা। বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকলেও সমগ্র নগরী ছেয়ে গেছে ঘন ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায়। ধোঁয়ার তীব্রতায় বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শিল্প।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে পুরো ইউরোপ।
