
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
পৃথিবী ব্যাপি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পালিত হয় মে দিবস। ১ মে, শ্রম দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। তবে এই দিবস পালনের পেছনে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দী ও তার আগের শ্রমিকদের বঞ্চনার এক করুণ ইতিহাস।
এই সংগ্রাম ও ইতিহাসের শুরুটা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ক্রমেই জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা। তাদের দাবি ছিল, ন্যায্য মজুরি এবং কাজের জন্য নির্ধারিত সময়। যুগের পর যুগ তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বঞ্চনার প্রতিবাদ ছিল এই আন্দোলন। একেকজন শ্রমিককে সেই সময় বাধ্যতামূলক খাটানো হতো ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা, বিনিময়ে পারিশ্রমিক ছিল খুবই সামান্য।
শ্রমিকদের সেই আন্দোলনে ঘটে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। হঠাৎ শ্রমিকদেরকে ঘিরে থাকা ভিড় থেকে কেউ একজন পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় সেদিন বিহ্বল ছিলেন আন্দোলনে অংশ নেয়া প্রায় সবাই। এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। আর ঝরে পড়ে ১০ থেকে ১২টি তাজা প্রাণ। পুলিশসহ ওই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ছিল আরও অনেক।
বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনার পাশাপাশি কন্ঠরোধের চেষ্টায় নির্মম এক ইতিহাস তৈরি হয় সেদিন। ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলনে প্রাণ হারানো সেই মানুষগুলোর স্মরণে প্রতিবছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। পরে বিশ্বজুড়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে ইতিহাস সৃষ্টির এক নিদর্শন হিসেবে পালন করা হতে থাকে এই শ্রম দিবস কিংবা মে দিবস।
মে দিবস শুধু শ্রমিকদের অধিকার আদায় নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকারের পাশাপাশি বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দিয়ে এসেছে যুগে যুগে। যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা সেদিন শুরু হয়, তা আজকের পৃথিবীর অনেক অন্যায়, বৈষম্য আর শ্রেণী-বিভেদকে ভেঙে সমাজ-ব্যবস্থার নব-উত্থান ঘটানোর জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়। আর তাই এ মে দিবসে সেই প্রাণ হারানো শ্রমিকদের স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধাভরে। সেই সঙ্গে সমাজের বৈষম্য ভেঙে ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের প্রতীকী হিসেবেই বছরের পর বছর পালন করা হচ্ছে মে দিবস।
শত বছর পার হয়েছে, শ্রমিকদের কর্মঘন্টা কমলেও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রকৃত মর্যাদা ও অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে অনেকেই মনে করেন।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
