Sunday, September 20

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি: ইরাকের চেয়ে বড় রিজার্ভের দেশকে লক্ষ্য

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে ভেনেজুয়েলা উত্তেজিত। দেশটির বিশাল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রিজার্ভ হিসেবে পরিচিত এবং ইরাকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই হুমকিকে তাদের তেলক্ষেত্র দখলের চক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যখন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, “তেলই এখানে মূল বিষয়”।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ান সাগরে ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৫ হাজারেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। থ্যাঙ্কসগিভিং ডেতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “খুব শীঘ্রই” ভেনেজুয়েলায় স্থলভাগে অভিযান শুরু হবে, যা তারা ড্রাগ ট্রাফিকিং বন্ধ করার জন্য বলে দাবি করছেন। শনিবার তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ভেনেজুয়েলার আকাশপথকে “বন্ধ” বিবেচনা করা উচিত, যাতে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ হয়। এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও প্রভাবিত হচ্ছে।

মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে “তেলের লোভ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি অয়পেকের মহাসচিবকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের লক্ষ্য তাদের দেশের তেলক্ষেত্র দখল করা। ভেনেজুয়েলায় প্রমাণিত তেল রিজার্ভ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল, যা সৌদি আরব বা ইরাকের চেয়েও বেশি। এই তেলের বেশিরভাগই ভারী ধরনের, যা যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রই মর্টগেজ হয়ে গেছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো সিএনএন-এর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এটি তেল নিয়ে আলোচনা, ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র বা নার্কো-ট্রাফিকিং নয়।” তিনি যোগ করেন, ভেনেজুয়েলা বিশ্বব্যাপী ড্রাগ ব্যবসার মাত্র অল্প অংশের মধ্য দিয়ে যায় এবং দেশটি নিজেই বড় ড্রাগ উৎপাদক নয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ক্যারিবিয়ানে ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদুরো সরকারের “ঝুঁকি” থেকে আমেরিকানদের রক্ষা করা।

সোর্সের মতে, ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন, যেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ হবে। এই উত্তেজনা পশ্চিম গোলার্ধে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে তেলের দাম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন চিন্তিত, যাতে এই হুমকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *