
|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় চুক্তিবদ্ধ অচল ও বন্ধ চালকল থেকে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলএসডি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা এসব চাতালের নামে সরকারি বরাদ্দ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৬টি চুক্তিবদ্ধ চালকলের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে ৩৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি চাতাল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কোনো চাতাল মালিক সরাসরি পরিচালনা না করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, যেখানে চাল উৎপাদনের বদলে কেবল ধান শুকানো ও স্টকের ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন চাতাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মিলেই নেই কোনো ম্যানেজার, শ্রমিক বা উৎপাদনের দৃশ্যমান কার্যক্রম। এমনকি কয়েকটি চাতালের চিমনির মাথায় ঘাস গজাতেও দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—উৎপাদন বন্ধ থাকা এসব অচল চাতালের নামে গুদামে সরবরাহ করা চালের প্রকৃত উৎস কী?
এ বিষয়ে ভাই ভাই চালকলের মালিক আতাউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তাঁর মিলের অনুকূলে ২১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলার অধিকাংশ চাতালই বর্তমানে ব্যবসা না থাকায় বন্ধ হওয়ার পথে।
বন্ধ চাতাল থেকে চাল সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে মাঝে মাঝে চাতাল বন্ধ থাকে। তবে উৎপাদনে না থাকা চাতাল থেকে কীভাবে চাল নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “তারা কোথা থেকে চাল দেবে, সেটি তাদের বিষয়।”
অনুরূপ মন্তব্য করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “সরকার বরাদ্দ দিয়েছে, আমরা চাল নিতে চাই। তারা কীভাবে চাল সরবরাহ করবে, সেটা চাতাল মালিকেরা ভালো জানেন।”
এদিকে বন্ধ বা অচল চাতালের চাল গুদামে তোলায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা নিয়ে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বদলগাছী উপজেলার ১৬টি চুক্তিবদ্ধ চালকলের বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা ও চালের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখতে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
