Tuesday, August 11

বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা

|| রবিউল আউয়াল | বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ||

নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে এক বছর আগে। ভবনের ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল, বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। কোথাও কোথাও ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের থাকতে হচ্ছে চরম আতঙ্কের মধ্যে।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭৫ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫০ বছর। সে হিসাবে ২০২৫ সালেই ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরোনো এই ভবনেই চালিয়ে যেতে হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কয়েকটি অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব অংশের নিচ দিয়েই রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সজিব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার মাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবনের ছাদের অবস্থা দেখে আতঙ্ক লাগছে। কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে যায়! দ্রুত এটি সংস্কার করা দরকার।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান, ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে নির্মিত এই ভবনটির আয়ুষ্কাল ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এনে ভবনটি পরিদর্শন করিয়েছি। গত অর্থবছর থেকে ভবনটির রিপেয়ারিংয়ের কাজ চলছে, যাতে আপাতত হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়। রাজশাহী থেকে আসা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, দুটি স্থানে সমস্যা বেশি। সেখানে সাধারণ প্লাস্টার টেকসই হবে না, তাই কেমিক্যাল রঙের মাধ্যমে সাময়িক কাজ চালানো হচ্ছে।’

নতুন ভবনের বিষয়ে তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে তৎপর রয়েছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এই ভবনে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া বিপজ্জনক। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত বিকল্প উপায়ে নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *