
|| কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর আওতাধীন চারটি বিওপির টহলদল এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১২৮ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ৯ কেজি ২০ গ্রাম গাঁজা, চারটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বালারহাট বিওপির টহলদল চওড়াবাড়ি ও বালাটারী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে মোটরসাইকেলে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে তারা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিনে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন গোড়কমন্ডল বাজার, রাত ৭টা ৩০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কাশেম বাজার এবং ২৪ আগস্ট ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে শিমুলবাড়ী বিওপির আওতাধীন জকুরতল এলাকায় আরও তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এসব অভিযানে সন্দেহভাজন চোরাকারবারিরা মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০১ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ৯ কেজি গাঁজা, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) জানিয়েছে, জব্দ করা ১২৮ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ৫১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৯ কেজি ২০ গ্রাম গাঁজার সিজার মূল্য ৩১ হাজার ৫৭০ টাকা। চারটি মোটরসাইকেলের মূল্য ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং একটি বাইসাইকেলের মূল্য ৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭৭০ টাকা।
বিজিবি আরও জানায়, এসব মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
