
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পৃথকভাবে দুটি মিছিল বের করে উভয় পক্ষ।
এর মধ্যে এক পক্ষ ‘এলাকাবাসী’র ব্যানারে মিছিল বের করে, যাতে বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. বাদল হোসেনের সমর্থকরা অংশ নেন। এ সময় মো. বাদল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, যুবদল নেতা শাহীন মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির নেতা মোশাররফ হোসেন ও যুবদল নেতা মো. শাহীন মোল্লার নেতৃত্বেও পৃথক মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, হরিরামপুরে এখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়েছে। তিনি অবিলম্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই রাজনৈতিক বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
পরিস্থিতির বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করে নিজ নিজ স্থানে চলে গেছে।
