
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে জামায়াত-সমর্থিত কোনো প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগ তুলে শতাধিক জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মব সৃষ্টি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের সময়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনকে সদস্য করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবে। বদলির ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ, শূন্য পদ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংখ্যা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনার নির্দেশনাও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ২৪ আগস্ট বিকেলে ওই কমিটি নিয়ে আলোচনা করতে শতাধিক জামায়াতের নেতা-কর্মী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কমিটি বাতিল করে তাদের পক্ষের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং কমিটি বাতিল না করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন তাদের উদ্দেশে বলেন, আগের ইউএনও কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করে গেছেন। পূর্ববর্তী কর্মকর্তা গঠিত কমিটিতে বর্তমান ইউএনও হিসেবে তিনি ইচ্ছেমতো নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এ নিয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগেশ্বরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো পক্ষের চাপ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কমিটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
তবে ইউএনওকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
