Monday, August 3

ঠাকুরগাঁওয়ে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ

|| কাইয়ুম হোসেন | ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ||

নতুন সড়ক নির্মাণের নামে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের একটি সচল পাকা সড়ক ভেঙে সেটির ইট, বালু ও কার্পেটিংয়ের মালামাল ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন সড়ক নির্মাণেও নির্ধারিত শর্ত না মেনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইকপাড়া-কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দরপত্রে ১২ শতাংশ কম দর (লেস) দিয়ে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাবর ট্রেডার্স’। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূল ঠিকাদার কাজটি স্থানীয় সুভান বিডিআর ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সাব-ঠিকাদারি হিসেবে হস্তান্তর করেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকায় ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন ঠাকুরগাঁও চিনিকলের একটি পাকা সড়ক এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তীতে ভাঙা সড়কের পুরোনো ইট, বালু ও কার্পেটিংয়ের উপাদান ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে নতুন পাইকপাড়া-কৃষ্ণপুর সড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনুমতি ছাড়া চিনিকলের সরকারি সম্পত্তি কেটে নেওয়া প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির বলেন, “আমার কাছে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমাদের সড়ক ভাঙতে হলে আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হবে এবং সরকারি মালামাল বুঝিয়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।”

কেবল পুরোনো সড়কের মালামাল চুরির অভিযোগই নয়, নতুন সড়কটির নির্মাণকাজেও মারাত্মক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। সাব-বেস ও বেস তৈরিতে মানসম্মত বালুর পরিবর্তে কাদামাটি, ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ঝামা ইট এবং খোয়ার বদলে ভবন ভাঙার রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি নির্দেশিকা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে মাটির শোল্ডার না রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না। বারবার এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বিষয়টি জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বাবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফয়জুর রহমান জানান, সাব-ঠিকাদাররা কীভাবে কাজ করছে তা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *