
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা বিভাগে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৯৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে খুলনা জেলায়। এ জেলায় নতুন করে ১১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ২৩ জন, বাগেরহাটে ১৪ জন, মাগুরায় ১৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৯ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৮ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজসহ ১৫ জন, ঝিনাইদহে ৬ জন, নড়াইলে ৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৫ হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৭২৬ জন।
এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছেন ১৭ জন।
একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি, অন্যদিকে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রোগীর চাপ বাড়ায় বিভাগের হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
