
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে আগামী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
আজ ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) জাপানের কিয়োদো নিউজ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ এক ইরানি কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের এই প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সামরিক চাপ কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলেই ইরান এক সপ্তাহের মধ্যে এই নৌপথ চালু করবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার শত্রুতার স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, “জাতিসংঘের এই অধিবেশন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতিতে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ। তবে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনকে তাদের আগ্রহের বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ দেখাতে হবে।”
চলতি সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, সোমবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুটিতে। বিশ্ব জলপথের এই সংকটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি হলেও, ইরানের এই নতুন প্রস্তাব প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
এর আগে গত জুনেও মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সামরিক উত্তেজনায় তা ভেস্তে যায়। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে তেহরানের নতুন পদক্ষেপে দুই দেশের স্থবির কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
