Saturday, September 19

চিলমারীতে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে চলছে খোর্দ বাঁশপাতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়নের খোর্দ বাঁশপাতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের বদলে ‘প্রক্সি’ শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। মাত্র ৫৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক পদে দুজন থাকলেও নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মোছা. রোমানরা শারমিন শান্তা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জোনাব আলী। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, তারা দুজন শিক্ষককে একসাথে স্কুলে পান না। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে প্রক্সি শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনা করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হলেও মাস শেষে প্রধান শিক্ষক তাকে নিজের পক্ষ থেকে কিছু ভাতা দেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক জোনাব আলীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তিনি চিলমারী শিক্ষা অফিস বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্কুলে যাননি। পাশাপাশি চরাঞ্চলে নৌকার সময়সূচির জটিলতা এবং হাঁটার দূরত্বের কারণে দুপুর ১টার মধ্যেই স্কুল ত্যাগ করতে হয় বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলায় মোট ৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে চরাঞ্চলে রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ২৪টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদ শূন্য। চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের সময়মতো না আসা এবং দুপুর ১টার মধ্যে স্কুল ত্যাগ করার প্রবণতা রয়েছে।

চিলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান জানান, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” চরাঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নত করতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের যাতায়াতে নৌকার সময়সীমা পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাৎসরিক বরাদ্দ তছরুপ এবং অপচয়ের অভিযোগও তুলেছেন। অন্যদিকে শিক্ষকরা জানান, চরাঞ্চলে আবাসনের ব্যবস্থা না থাকা, স্পিডবোট বা ডাবল ইঞ্জিন নৌকার অভাব এবং রৌমারী-রাজিবপুরের মতো চর ভাতা না পাওয়ার কারণে তারা নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষা অধিদপ্তর ও সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাদানের মান বাড়াতে চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *