Tuesday, August 11

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি ||

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ধারণ করে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

মন্ত্রী এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ৩৬ জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখতে পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে যোদ্ধাদের জন্য ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ মূল্যছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আমাদের পর্যটন স্পটগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থায় তাদের চাকরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, “বর্তমান সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যস্ত আছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানুষের প্রত্যাশা, বৈষম্যহীন সুযোগ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, “শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানো আমাদের কৃতজ্ঞতা ও জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের পর্যটন শিল্পকে আরও জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগাবে।”

অনুষ্ঠানে পাঁচজন শহীদ জুলাই যোদ্ধার পরিবারের সদস্য এবং পাঁচজন আহত যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার এবং সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *