প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী
সরকার সর্বশেষে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে প্রায় এগারো বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণার একটি অলিখিত রীতি প্রচলিত থাকলেও, তা দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে।
এই ১১ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এবং মুদ্রাস্ফীতি কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আজ রিকশাচালক ও দিনমজুর থেকে শুরু করে সবারই জানা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ গুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি স্বর্ণের মূল্য এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের অর্ধেকেরও বেশি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই অবস্থান করছেন দশম থেকে বিংশতম গ্রেডে। বর্তমানে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত সূচনীয়। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবার জন্য সমান—একটি নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ে একজন উচ্চবিত্তের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, বিংশতম গ্রেডের একজন নিম্নআয়ের কর্মচারীকেও একই পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়।
অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার পর ইতোমধ্যে দুটি সরকার দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিয়েছে এবং বর্তমান সরকার এই ধারাবাহিকতায় তৃতীয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও একাধিকবার নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের গুঞ্জন উঠলেও তা শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পে স্কেল ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও দেখতে দেখতে সাত মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন এখনো ঝুলে রয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পে কমিশনের মতো নীতি নির্ধারণী পদে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্ত। বাজারের চাল, তেল কিংবা মাংসের দাম যত আকাশচুম্বীই হোক না কেন, তা তাদের জীবনযাত্রায় সামান্যতম প্রভাব ফেলে না। ফলে নিম্নআয়ের কর্মচারীরা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে কি না, কিংবা বিনা চিকিৎসায় ও অনাহারে ভুগছে কি না—সেদিকে নীতি নির্ধারকদের খেয়াল থাকে না। বরং সরকারের অর্থ সাশ্রয় করে নিজেদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেই তাদের বেশি মনোযোগ দিতে দেখা যায়।
অতএব, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে আর বিলম্ব করা যুক্তিযুক্ত নয়। সরকারের কোনো দ্বিধা বা অনিচ্ছা থাকলেও, দেশের বৃহৎ একটি অংশ এবং স্বয়ং সরকারের কল্যাণের স্বার্থেই এখন ইতিবাচক সদিচ্ছা প্রদর্শন করা সময়ের দাবি।
লেখক: সাবেক ডিন, থিওলজী অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
