
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসানের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ দেড় যুগ (১৮ বছর) পর পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের জট ও নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে বিকল্প রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের জমিদাতা সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী ৩৫ শতাংশ জমি দান করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াপদা খালের বাঁধ দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করতেন। তবে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ২১ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে স্থাপনা গড়ে তোলায় স্কুলে যাওয়ার পথটি পুরোপুরি আটকে যায়। এর ফলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ১০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০-১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চলছিল।

প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম ও প্রধান শিক্ষক রিয়াদ বিন রানু জানান, মূল পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক মোল্লা ও প্রতিবেশী শামছুল হকের বাড়ির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কোনো রকমে চলাচল করছিলেন। একাধিকবার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা স্কুল পরিদর্শনে এসে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও জমির মালিকানা বিরোধে তা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসানের দৃঢ় পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিরোধের নিরসন ঘটে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক মোল্লার নিজ জমি দিয়ে স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়।
রাস্তা উন্মুক্তকরণের সময় উপস্থিত ছিলেন চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক, চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার, বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বুলু, সাংবাদিক হুমায়ূন কবির, আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, আবু ওবায়দুল হক খাজা, আসিফ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, দুলাল মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসন হওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি নেতা আব্দুল বারী সরকার বলেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এডিপির বিশেষ ফান্ড থেকে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও আইনি ও স্থানীয় বাধার কারণে রাস্তাটি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই বাধা দূর হয়েছে এবং শিগগিরই মূল রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।
