
|| চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||
ক্ষুদ্রঋণের নামে উচ্চ সুদের কারবার, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সেই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে সৃষ্টি মাল্টিপারপাস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন দাশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে তারা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে স্বল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ নেন। ঋণ হস্তান্তরের সময় নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক রেখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুদে-আসলে ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পরও কিছু ক্ষেত্রে সেই চেক ফেরত না দিয়ে, উল্টো প্রকৃত পাওনার চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকার দাবি তুলে আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে লিটন দাশ নিজেই বাদী হয়ে আদালতে ৭০ থেকে ৮০টিরও বেশি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বেও এ ধরনের মামলার মাধ্যমে অসহায় মানুষদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব করা হয়েছে। কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় আদালতের রায়ের সুবিধা নিয়ে অনেক পরিবারকে দেউলিয়া করার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে আদালতে লিটন দাশের নামে একাধিক চলমান মামলার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে মামলাগুলোর আনীত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারাধীন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লিটন দাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা।
