
|| জাকারিয়া শেখ | ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
রাত তখন ১২টা ১ মিনিট। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কালিরহাট বাজারে একে একে জ্বলে ওঠে ৬৮টি মোমবাতি। প্রতিটি মোমবাতি বহন করছে রাষ্ট্রহীনতার ৬৮ বছরের দীর্ঘ অন্ধকার জীবনের স্মৃতি। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের ১১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ষপূর্তি উদযাপন করেন সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়াসহ আশপাশের বাসিন্দারা।
পরে দাসিয়ারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষ রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও ভোটাধিকার পেয়েছে, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাচ্ছে। তবে ছিটমহলবাসীকে উন্নয়নের মূলধারায় পুরোপুরি যুক্ত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবা আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ-ভারত সাবেক ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি আলতাব হোসেন বলেন, “আমরা নাগরিকত্ব পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও ভূমির রেকর্ডসংক্রান্ত জটিলতা দূর করা আজও বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে আমরা প্রতিবছর এ আয়োজন করি।”
সভায় বক্তারা আরও জানান, ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর পার হলেও অনেক এলাকায় এখনো মানসম্মত সড়ক নির্মাণ হয়নি। চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি ভূমির নামজারি জটিলতার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান জোবায়ের হেমেল, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষে এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
