
|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||
নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নে চুক্তির মেয়াদ শেষে সামাজিক বনায়নের আওতাধীন গাছ নীতিমালা অনুসরণ করে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫ সালে মান্দা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (এফডব্লিউএ) এবং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ১২ বছরের চুক্তিতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় ধারিয়ারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি গ্রামীণ সড়কের পাশে আম ও ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালে গাছ কর্তনের মেয়াদ শেষ হয়।
পরবর্তীতে গত ৪ জুলাই গাছ বিক্রির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১২ জুলাই প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে বিভিন্ন এলাকার ২১ জন কাঠ ব্যবসায়ী অংশ নেন। এতে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দর দিয়ে গাছগুলো ক্রয় করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। নিলাম প্রক্রিয়া শেষে তিনি নিয়ম অনুযায়ী গাছ কাটার কাজ শুরু করেন।
উন্মুক্ত নিলাম কার্যক্রমে প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কে এম লুৎফর রহমান খান, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, গ্রামপুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বিষয়ে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম লুৎফর রহমান খান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব খাটানো হয়নি। সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা মেনে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করে এই নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মণ্ডল জানান, “২০০৫ সালের যৌথ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং সুফলভোগীদের সমন্বয়ে প্রকাশ্যে নিলাম করা হয়েছে। এরপরও একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে, যা দুঃখজনক।”
এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, “রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন। তৎকালীন সময়ে ইউপির আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র অনুযায়ী নিয়ম মেনেই গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।”
