Wednesday, July 15

আলোচনায় না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন আলোচকরা ইতোমধ্যে ইরানকে চুক্তি করার অথবা সবকিছু হারানোর বার্তা দিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের কার্গো পরিবহনের ওপর আগে ঘোষিত ২০ শতাংশ ফি আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধে এই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে এর পরিবর্তে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ‘বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি’ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হবে। তবে হরমুজ প্রণালি ইরান ছাড়া বাকি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে উল্লেখ করে দেশটির ওপর আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রক্ষার পুরো দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিক, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানি সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলায় অন্তত এক ডজন নাবিক হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে, ট্যাংকার দুটি তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাচ্ছিল।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, আজ বুধবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনী ইরানের ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *