Wednesday, July 15

ইবিতে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ’ নীতিমালা উন্মোচন

|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||

‎বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত ধর্ম, বর্ণ, বয়স, পেশা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‎মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালার পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা ও নীতিমালার আলোকে প্রণীত এ নীতিমালা গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭২তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন লাভ করে।

‎নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ ও সহজ অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার প্রদান, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা, অভিযোগকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং অভিযোগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

‎নীতিমালায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের আওতায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বা বাইরে অশোভন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি, টিটকারি, অনুসরণ করে উত্যক্ত করা, চিঠিপত্র বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে হয়রানি, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, চরিত্রহননের চেষ্টা, জোরপূর্বক প্রেমের প্রস্তাব বা সম্পর্ক স্থাপনের চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ধর্ষণসহ বিভিন্ন আচরণকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‎নীতিমালা অনুযায়ী, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন করবে। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বিরত রাখা যাবে।

‎অপরাধী শিক্ষার্থী হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী লিখিত সতর্কীকরণ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কার, স্থায়ী বহিষ্কার এবং প্রয়োজন হলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধী শিক্ষক হলে ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, অভিযোগকারীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিধানও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‎যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে বিলবোর্ড স্থাপন এবং বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের নীতিমালার আলোকে গঠিত কমিটিই এ পুস্তিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ১ আগস্ট ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রচারণা শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ক্যাম্পাসে বিলবোর্ড স্থাপন এবং বিভাগভিত্তিক প্রচারণা চালানো হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নীতিমালাটি আরও পরিমার্জন করা হবে এবং ভুক্তভোগীরা যাতে সহজে অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য ই-মেইল ও যোগাযোগ নম্বরও সংযুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *