
অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া
ফেনীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব, তিনি একসময় জামায়াতে ইসলামির অন্যতম সংগঠক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে হযরত মওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম (রহ.)-এর সাথে আইডিএল-এর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আদর্শিকভাবে আমার আব্বার খুব পরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি সবসময় আমার খোঁজ খবর রাখতেন।
মূলত তিনি ফেনী জেলা শাখায় তালাবার কার্যক্রম জোরদার করার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। প্রতিনিয়ত তিনি আমাকে বিভিন্ন বিষয় পরামর্শ দিতেন। সংগঠনের কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকল্পনা তৈরিতে আমাকে সহযোগিতা করতেন।
বিশেষ করে আমার মনে পড়ে, জেলা শাখার তালিম ও তারবিয়াত প্রোগ্রামের জন্য জোর দিতেন। তিনি আমাকে কোন একটা পরিকল্পনা দিয়ে এটা বাস্তবায়নের জন্য যদি ৫০০ টাকা লাগে তিনি হয়তো ৫০ বা ১০০ টাকা তার বাজারের টাকা থেকে দিয়ে দিতেন। এবং বাকি টাকা সংগ্রহের জন্য আইডিএল-এর কিছু দায়িত্বশীল ছিলেন তাদের নিকট যাওয়ার কথা বলতেন। এবং সাধারণ কালেকশনের পরামর্শ দিতেন।
আমার স্মরণ পড়ে, ফেনী আলিয়া মাদ্রাসার সাথে ছিল ফেনীর টাউন হল। তালিম ও তারবিয়াত প্রোগ্রামের জন্য আমরা সে হলটি ভাড়া করতাম। সেখানে ৫০ থেকে ১০০ জন ছাত্র তালিম ও তারবিয়াতের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করত।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা চাঁদা কালেকশন করতাম। সাধারণ কালেকশনের ধরন ছিল আমরা ১০-১৫ জন ছাত্র একসাথে বের হতাম পরিকল্পনা মোতাবেক সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যেমন ইফতার মাহফিল। আমরা শহরের প্রত্যেকটি দোকানে দোকানে গিয়ে তাদেরকে সহযোগিতার কথা জানাতাম। দেখা যেত, আমাদের প্রোগ্রামের জন্য যে বিশাল বাজেট ছিল সে বাজেটের চেয়ে উত্তোলিত চাঁদার পরিমাণ বেশি হয়ে যেত। টাকার জন্য আমাদের কোনো প্রোগ্রাম বাতিল করতে হয়নি। তবে এই চাঁদার টাকা কোন সময় আমানতের খেয়ানত হয়নি এবং অপচয় হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা সবসময় সতর্ক থাকতাম যথাযথ হিসাব নিকাশ সংরক্ষণ করা হতো।
আমার মনে পড়ে, হযরত মওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম (রহ.) একবার আইডিএল-এর প্রোগ্রামে ফেনী গিয়েছিলেন। তালাবার পক্ষ থেকে আমরা সেদিন তার থেকে চাঁদা সংগ্রহ করি। তিনি আমাদেরকে ২০ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন। সে ২০ টাকা ছিল আমাদের কাজ করার প্রেরণা। (চলবে…)
লেখক: কেন্দ্রীয় আমীর, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।
