
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সই হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ মেয়াদে শান্তি ফিরে আসবে।
তবে বেইজিংয়ের এমন আশাবাদের মধ্যেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল। চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালেও, তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল মূলত কাতারে আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কারিগরি আলোচনা করতে গেছে, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত ও জামাতাকে দোহায় পাঠিয়েছেন আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে। দুই দেশের এই টানাপোড়েনের মাঝেই ওমান ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওহিও বা ওয়াশিংটন থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী বোমাবর্ষণ করলে ইরান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আলোচনার টেবিলে বাড়তি সুবিধা পেতে চাইছে তেহরান। এমনকি প্রণালিটি থেকে মাইন অপসারণের কাজ তারা একাই করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
এই চরম কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যেই অবশ্য ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সুখবর এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে প্রথম দফায় ৬০০ কোটি ডলার তারা ফেরত পাচ্ছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্তকে ইরানি জনগণের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে এই অর্থপ্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমিয়ে চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
