সোমবার, জুন ১৫

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন অনুষ্ঠিত

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে এই কুরআনিক তাত্ত্বিক আলোচনা সভাটি আয়োজিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনের সূরা আহকাফের ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াতের আলোকে জীবনঘনিষ্ঠ, সমসাময়িক ও হৃদয়স্পর্শী দারস পেশ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা।

দারস পেশকালে মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা সূরা আহকাফের ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এই আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহ তায়ালা মহাবিশ্ব সৃষ্টির সত্যতা ও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অথচ সত্যকে অস্বীকারকারীরা আল্লাহর এই সতর্কবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষ যাদেরকে ডাকে, তারা পৃথিবীর কোনো কিছুই সৃষ্টি করেনি এবং আসমানসমূহের সৃষ্টিতেও তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। ইসলামের এই অকাট্য তাওহীদের বাণী ও পরকালের জবাবদিহিতার চেতনাকে ধারণ করেই একজন মুমিনকে তার জীবনের পথ চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যখন মানুষের সামনে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা একে ‘স্পষ্ট জাদু’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত নিয়ে কাফিরদের তোলা সংশয়ের জবাবে এই আয়াতেই আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, রাসুল নিজের মনগড়া কিছু বলেন না, বরং তাঁর প্রতি যে ওহী নাজিল হয় তিনি কেবল তারই অনুসরণ করেন।

মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল-কুরআনের ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াতের মূল শিক্ষা হলো—পরনিন্দুক ও অহংকারীদের বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে ইসলামের চিরন্তন সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং যাবতীয় শিরক ও অসত্যের বেড়াজাল ছিন্ন করে আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পন করা।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির জনাব মোস্তফা বশিরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দারসে কুরআনে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসান, কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক আহমাদ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ধর্মীয় ও সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে এবং নৈতিকতার অবক্ষয় রোধে নিয়মিত এ ধরনের দারসুল কুরআনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্ব শান্তি এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে এক বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *