রবিবার, জুন ৭

থানাহাট বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র থানাহাট বাজারের আবর্জনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের অভাব, যত্রতত্র ময়লা ফেলা, গরু-ছাগল জবাইয়ের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাজারের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই থানাহাট বাজারে প্রতিনিয়ত প্রায় ১২ মণ বর্জ্য জমা হয়। কিন্তু এসব বর্জ্য সরানোর জন্য কোনো আধুনিক যানবাহন নেই। অযান্ত্রিক ট্রলিতে করে বর্জ্য নিয়ে পরিবেশকর্মীরা অপরিকল্পিত স্থানে ফেলছেন। দোকান ও বাজারের পচনশীল অংশ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ময়লা সরাসরি রাস্তাঘাট, ড্রেন এবং নালা বা জলাশয়ের আশেপাশে ফেলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিপূর্বে অস্থায়ীভাবে ব্রিজের নিচে নালা ও খালে বর্জ্য ফেলা হলেও, গুরুত্বপূর্ণ নালা ভরাট ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদে সেখানে আর বর্জ্য ফেলা যাচ্ছে না। বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন চরম বিপদে পড়েছেন। একদিকে যেমন বাজারে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ হয়ে আছে, অন্যদিকে এই পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সহ-সেক্রেটারী সোহেল জানান, গত ঈদুল আজহার পরদিন থেকে বাজারের বর্জ্য সরানো হচ্ছে না। যত্রতত্র আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকায় বাজারে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহানও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আগে ব্রিজের নিচের নালা ও খালে বর্জ্য ফেলা হতো। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ—নালা-খাল ভরাট হয়ে অस्वास्थ्यকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এখন বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় বাজারে বর্জ্যের স্তূপ জমছে।

বাজারের ইজারাদার চমক জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে স্থায়ী কোনো জায়গা না থাকায় বর্জ্য নিঃসরণ করা যাচ্ছে না। সমস্যাটি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারকে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বণিক সমিতি ও বাজার ইজারাদারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদুল আজহার পর থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এর আগে উপজেলা প্রশাসন থেকে বর্জ্য রাখার প্লাস্টিকের ড্রাম দেওয়া হলেও বর্তমানে সেগুলো আর নেই।

বাজার বা ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন না থাকা, যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপ এবং পশু ও মাছের বর্জ্যের কারণে নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাজার ইজারা বা বণিক সমিতির মাধ্যমে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। এর ফলে সৃষ্ট স্তূপীকৃত ময়লা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে। পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ক্রেতারা বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে না পারায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই জনদুর্ভোগ ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত একটি স্থায়ী ডাম্পিং জোন নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি বাজার ইজারাদার বা থানাহাট বাজার বণিক সমিতির মাধ্যমে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং বাজারের অবরুদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের পথ সচল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *