|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
বর্তমান সরকারের মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দেশের একটি বনেদী পরিবারের সন্তান। তিনি বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যাল অক্সফোর্ডের গ্রাজুয়েট।
শুধু তাই নয় তিনি দেশের সবচাইতে বড় একটি সেক্টর শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় সেরা ব্যক্তি মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি যদি এ দায়িত্বে না থাকতেন বা না হতেন তিনি অক্সফোর্ডের গ্রাজুয়েট এবং হতেন একটি সাধারণ পরিবারের কেউ তাহলে তার সম্পর্কে এত কথা আসতো না।
বাবা হয়ে যদি সন্তানকে অথর্ব কুলাঙ্গার অকর্মণ্য ইত্যাদি বলে গালি দেয় তাহলে এই ব্যর্থতার দায়ভার ১০০% না হলেও ৯৯% ভাগ হলো বাবার। তিনি এবিষয়টিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অবশ্যই অক্সফোর্ডের সমান নয়। এটা ১০০% সত্য। কিন্তু সেই মানে পৌঁছানোর দায়িত্ব শিক্ষা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী প্রতি-মন্ত্রীর না শিক্ষকের? শিক্ষা এবং শিক্ষকের মান উন্নয়নের জন্য যে অর্থের দরকার সেটা কি শিক্ষকরা দিবেন না মন্ত্রী মহোদয় সরকারের থেকে বাজেট নিয়ে সেই ব্যবস্থা করবেন?
তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগের সময় মেধাবীদের বাদ দিয়ে তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন দলের অথর্বদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে ভিসিকে বাধ্য করবেন আর তাদেরকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানে নিয়ে যাবেন সেটা কি করে সম্ভব?
শিক্ষামন্ত্রী সরকারের শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শক ক্ষমতাধর ব্যক্তি। শিক্ষার উন্নয়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সে মানে পৌঁছাতে করণীয় বিষয়ে সার্বিক দায়িত্ব তাদের উপরে।
আমরা যখন তখন বলে থাকি বিশ্বরেঙ্ককিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নেই কেন?
কিন্তু আমরা কখনো এ প্রশ্নটা করি না যে, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সে দেশের সরকার কত পারসেন্ট বাজেট দিয়ে থাকে? গবেষণা খাতে কত অর্থ তারা ব্যয় করে? শিক্ষার মান উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টা কতটুকু? শিক্ষকদের মান এবং স্কেল কোন পর্যায়ের? আশা করছি এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আমাদের চাইতে অবশ্যই ভালো জানেন।
তাঁর কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা যে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন সেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেতন কত? তার গবেষণা ভাতা কত? তার সামাজিক মান মর্যাদা কতটুকু? তার স্কেল কত? গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের সাপোর্ট/সহযোগিতা তার জন্য কতটুকু?
শিক্ষা খাতে সে দেশের বাজেট কত পারসেন্ট? সে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা মেধাবীরা নিয়োগ প্রাপ্ত হন না দলীয় লোক নিয়োগ প্রাপ্ত হন? গত দু’যুগে অন্তত এক পঞ্চমাংশ তুলনামূলক কম মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।
আরেকটি প্রশ্ন এসে যায় প্রাসঙ্গিকক্রমে। তিনি মন্ত্রী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে কি বসেছেন? শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যাপারে কি কোন ধরনের পরামর্শ করেছেন বা দিয়েছেন? তাদের অবস্থান তাদের মান মর্যাদা কতটুকু এগুলো উন্নয়নের ব্যাপারে করণীয় কি? শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্ব রেঙ্ককিংয়ে নিতে মন্ত্রী হিসেবে তিনি কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন?
বাংলা প্রবাদ “ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই কিল দেওয়ার গোসাই” শিক্ষকদের ব্যাপারে কত বাস্তব সত্য!
শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর অবদান যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বলে সেটি ব্যক্তিগত মতামত বলে ব্যাখ্যা প্রদান কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? সরকারের বড় পদের অধিকারী হয়ে এ ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য প্রদান বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী এবং পদের সাথে কতটুকু যায়?
বর্তমান সরকারের উচিত শিক্ষা বিষয়ক ইতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান, শিক্ষা বিষয়ে সর্বোচ্চ বাজেট প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আলাদা এবং দেশের সর্বোচ স্কেল প্রদান, গবেষণা খাতে প্রচুর বাজেট প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বোচ্চ মেধাবী একাডেমিক ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আর কেউ কোচিং সেন্টার বলার অবকাশ থাকবে না।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
