সোমবার, মে ১৮

বিতর্ক এড়াতে এমপি মন্ত্রীর যোগ্যতা নির্ধারণ নীতিমালা প্রণয়ন: আশু প্রয়োজন

দেশের যে কোন প্রতিষ্ঠানে ২০ তম গ্রেডের একজন কর্মচারী নিয়োগেও কিছু বিধি- বিধান নিয়ম-নীতি আইন-কানুন শর্ত-শারায়েত যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা থাকা অত্যাবশ্যক। অথচ দেশ পরিচালনায় শীর্ষ ব্যক্তি তথা মন্ত্রনা পরিষদ এবং আইন প্রণয়নকারী সাংসদদের যোগ্যতা অভিজ্ঞতার কোন মাপকাঠি নেই। বিষয়টি নিয়ে আইনগত কোন সমস্যা নেই এরপরেও আমরা দেশের শীর্ষ পদের অধিকারী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এমপিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কত কটুক্তি করেছি এবং করে যাচ্ছি আর কোন হিসাব নেই।

বিষয়টি আগে প্রয়োজন না থাকলেও বর্তমান মিডিয়ার যুগে এটা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। দেশের সাবেক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মত সর্বোচ্চ নির্বাহী পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে ধরনের অশোভন অমার্জনীয় মন্তব্য করা হয়েছে এবং হচ্ছে সেটা একেবারেই যায় না।

বিষয়টি শুধু দুঃখজনক নয় এতো বড় পদের অবমাননাও বটে।

দেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে বিষয়টি আমাকে খুবই ব্যথিত করে।

গণতন্ত্রের মাতা আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী অপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশপ্রেমিক প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও অনেক কটুক্তি করা হয়েছে। করা হয়েছে অসভ্য অসাধারণ মন্তব্য। এবং করেছেন অন্য কেউ নয় খোদ একই পদে থাকা দেশের আরেকজন শীর্ষস্থানীয় পদের অধিকারী।

যেখানে মন্ত্রণা পরিষদ এবং এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন মাপকাঠি নির্ধারিত নেই সেখানে এ পদের অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে এরকম কাদা ছোড়াছুড়ি করে দেশের শীর্ষ চেয়ারটির অবমাননা দেশের আইনে অঅমার্জনীয় অপরাধ বলেই আমি মনে করি।

আমার দৃষ্টিতে এমপি এবং মন্ত্রণা পরিষদের সদস্যদের নিন্মোক্ত যোগ্যতা থাকা অত্যাবশ্যক।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা : এমপিদের অন্তত গ্রাজুয়েট হওয়া এবং মন্ত্রীদের কমপক্ষে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী থাকা বাঞ্ছনীয়।

২. বৈদেশিক বিশেষ ডিগ্রী প্রাপ্তদের অগ্রাধিকার প্রদান: রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রনীতি ও লোক প্রশাসন আইন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে ডিগ্রী প্রাপ্তদের অগ্রাধিকার প্রদান করা যেতে পারে।

৩.বংশ বুনিয়াদ: উচ্চ বংশীয় না হলেও সমাজের এত নিচু বংশীয় না হওয়া যাতে তিনি স্বপদের সম্মান রক্ষায় অসামর্থ হন।

৪. সচ্চরিত্রবান হওয়া: ব্যক্তি জীবনে নীতি নৈতিকতাস্খলন হয়েছে এমন ব্যক্তি না হওয়া।

৫. ঋণ খেলাফি না হওয়া: এমন ঋণ খেলাপি না হওয়া যা তার অর্থ আত্মসাৎ বিষয়টি প্রমাণ করে।

৬. দেশদ্রোহী না হওয়া: ব্যক্তি জীবনে এমন কাজ না থাকা যা তার দেশদ্রোহিতার প্রমাণ করে।

৭. দেশ প্রেমিক হওয়া: ব্যক্তি জীবনে দেশের জন্য তার এমন কাজ থাকা যাতে তার দেশপ্রেমের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

৮. নেতৃত্বের গুণাবলীর স্ফুটন: শিক্ষা জীবনের যে কোন স্তরে নেতৃত্বের গুনার বলির স্ফুটন থাকা চাই। সেটা চাই ক্লাস ক্যাপ্টেন অথবা কোন ক্লাবের সভাপতি অথবা একাডেমিক সাংস্কৃতি বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক যেসব কাজে দেশের প্রতি তার কমিটমেন্ট তার দেশপ্রেম সহ তার নেতৃত্ব ফুটে ওঠে।
৯. প্রখর মেধাবী হওয়া: শিক্ষাজীবনে তার প্রতিটি স্তরে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এমন প্রমাণ থাকা।
১০. সধরদের প্রতি আনুগত্য যে ধর্মেরই হোক না কেন ধর্মের প্রতি তার আনুগত্য জন বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন প্রমাণ থাকা।

মোটামুটি এই দশটি গুণ যার মধ্যে থাকবে তাদেরকে দেশের যেকোনো এমপি মন্ত্রী চেয়ারম্যান মেম্বার ইত্যাদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নমিনেশন প্রদান করা যেতে পারে। তাহলে দেশজাতি তাদের সেবার জন্য ভালো প্রতিনিধি পাবে পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জন্মাবে কেউ কারো শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *