
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলেও পরাজয় মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিজেপি অন্তত একশটি আসন তৃণমূলের কাছ থেকে ‘লুট’ করে নিয়েছে। বিশেষ করে নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তিনি এই ফলের পেছনে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। গত সোমবার রাতে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গণনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং অনেক জায়গায় গণনাকারীদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রতিটি ধাপে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ম মেনেই ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচন অফিসারের দেওয়া রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি বন্ধ রাখা বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তৃণমূল নেত্রীর তোলা অভিযোগগুলো বস্তুনিষ্ঠ নয় বরং তা সম্পূর্ণ অসত্য।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়েছে এবং এখানে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ ছিল না। পরাজয়ের দায় এড়াতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হন মমতা। এরপর থেকেই তিনি পরাজয় স্বীকার না করে আইনি লড়াই ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। কমিশনের এমন কঠোর অবস্থানের পর এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।
