
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ইরান ইস্যুতে নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য গৃহীত বিশেষ সামরিক কার্যক্রম ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথে ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হওয়ার দাবি তুলে গতকাল ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কথা জানান। এর আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিলেও, বর্তমানে সমঝোতার পথে হাঁটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার থেকেই উপসাগরে আটকে পড়া ট্যাংকারগুলো বের করে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের বিশেষ প্রচেষ্টার রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অবরোধ কার্যকর থাকলেও চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরের সুযোগ দিতে এই প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
যদিও ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একাধিকবার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকি দিলেও ইরানকে দমনে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্পের এই পিছু হটাকে একদিকে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে একে তেহরানের শক্তির কাছে ওয়াশিংটনের এক প্রকার নতি স্বীকার বলেও মনে করছেন অনেক সামরিক পর্যবেক্ষক। আপাতত সবার নজর এখন প্রস্তাবিত সেই চুক্তির দিকে, যা বিশ্ব তেল বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সূত্র : রয়টার্স।
