
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ভারতের দক্ষিণ ও পূর্বের রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গেছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুতে রূপালি পর্দার সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) এক ঐতিহাসিক জয়ের পথে রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১৭৪টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের সুনিশ্চিত সম্ভাবনা তৈরি করেছে বিজয়ের দল। এর মাধ্যমে রাজ্যটিতে গত কয়েক দশকের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের প্রথাগত দ্বিমুখী রাজনীতির অবসান ঘটতে চলেছে।
বিজয়ের এই উত্থানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন ডিএমকে। দলটির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীই এখন টিভিকে প্রার্থীদের কাছে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন। অন্যদিকে, কেরালাতেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ এক দশক কেরালা শাসন করা বামপন্থি সিপিএম জোটকে পেছনে ফেলে বড় জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট। ফলে কেরালার রাজনীতিতে বাম শাসনের অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ভারতের পূর্ব প্রান্তের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের চিত্রও একই রকম নাটকীয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে এবং বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। তবে আসামে বিজেপি নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জালুকবাড়ি কেন্দ্রে নিকটতম কংগ্রেস প্রার্থীর চেয়ে ৫১ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের জয় সুনিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরির ৩০টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৫টি আসনে এবং ডিএমকে-কংগ্রেস জোট ৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। একই দিনে নাগাল্যান্ড, কর্ণাটক ও ত্রিপুরার কয়েকটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচনের ফলাফল ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক শক্তির পাশাপাশি নতুন তারকাদের উত্থান প্রথাগত দলগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
