
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশাল জয়ে ক্ষমতায় ফিরছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে মোদি-অমিত শাহের দল এবার রাজ্যটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩৪ বছর আগে বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে যেভাবে তৃণমূলের ‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, এবার সেই একইভাবে তৃণমূলকে ধূলিসাৎ করে গেরুয়া ঝড়ে চুরমার হয়ে গেছে মমতা ব্যানার্জির দুর্গ।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে (অনিয়মের অভিযোগে ফলতা আসনে ভোট হবে ২১ মে)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০৪টি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৭টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই পার করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কংগ্রেস ২টি এবং আইএসএফ ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। ভোট গণনার এই চিত্র সামনে আসতেই সারা রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তৃণমূলের উত্থানভূমি সিঙ্গুরে বিজেপির জয় এবং মালদহে বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিল আলাদা নজর কেড়েছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ভবানিপুর কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৩ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ইতিমধ্যে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। পরাজয়ের খবর আসার পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ব্যারাকপুর ও বর্ধমানসহ বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল প্রার্থীদের ওপর হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজেপির এই বিশাল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপি মানুষের স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের পেছনে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার মতো ইস্যুগুলো বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রচারণাও ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সৌগত রায় পরাজয় মেনে নিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে এমন উত্থান-পতন স্বাভাবিক এবং তারা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। সব মিলিয়ে এই নির্বাচনের ফলাফল ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
