
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
বর্তমান সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটে পরিবহনে চাঁদাবাজির ব্যাপক পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবহন পরিচালনার জন্য মাত্র দুটি কমিটি থাকলেও গত মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে জেলা কমিটি মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে আরও তিনটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। বাস মালিক-শ্রমিকদের দাবি, ঘাটের কর্তৃত্ব নেওয়া এবং চাঁদাবাজি করার লক্ষ্যেই রাতারাতি এসব ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর পাটুরিয়া ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় মালিক-শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করেছে। মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি (রেজি নং: ৫৪৯৭) এবং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং: ৬১৮০) বর্তমানে নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু গত ৮ এপ্রিল মাত্র একদিনেই জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আরও দুটি নতুন শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর নয় দিন পর ১৮ এপ্রিল ‘মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’ এর প্যাডে আরও একটি ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়, যাদের একজনেরও শ্রমিকের পরিচয়পত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি হাইওয়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সিএনজি পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পাটুরিয়া ঘাটে সেলফি পরিবহন থেকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা, নীলাচল থেকে ২০০ টাকা, পদ্মা লাইন থেকে ১০০ টাকা এবং যাত্রীসেবা পরিবহন থেকে ২০০ টাকা করে ‘জিপি’র নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ঈদ বা উৎসবের সময় এই চাঁদার পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মালিকরা জানান, চাঁদা না দিলে গাড়ির সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেলের উচ্চমূল্য ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে এই বাড়তি চাঁদার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন মালিকরা।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছে বৈধ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। তারা দাবি করেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন নেওয়া তথাকথিত ‘অনার্স গ্রুপ’গুলোর কোনো ধরনের চাঁদা আদায়ের বৈধতা নেই। এদিকে শিবালয় হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, তারা অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি তদারকি করছেন। আর মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বিপিএম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঘাটে কেউ চাঁদাবাজি করলে এবং তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
