
|| নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) ||
দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই টিকার আওতার বাইরে ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই কোনো টিকা গ্রহণ করেনি এবং ১৪ শতাংশ শিশু মাত্র একটি ডোজ পেয়েছিল। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে ৮৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংক্রমণের এই সর্বোচ্চ পর্যায় দ্রুতই কমে আসবে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত ৩০টি হটস্পট উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রমের ফলে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯৪৪ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৯৮০ জন। এই সময়ে নিশ্চিত হামে ৪৭ জন এবং সন্দেহজনক হামে ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্ত ১৬ হাজার ২৬৩ জন। এ ছাড়া রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবে গত তিন মাসে পরীক্ষার ৩৫ শতাংশ পজিটিভ আসলেও এপ্রিলে তা দ্বিগুণ হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধ কার্যক্রমে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, হাইজিন কিট বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে এই কর্মসূচির আওতায়। সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয় এবং জানানো হয় যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
