
|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে গড়ে উঠেছে শতবর্ষী লাইব্রেরী। ১৯৩৬ সালে কবি তালিম হোসেন চৌধুরী তার নিজ পিতৃভূমি চাকরাইল গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন এই লাইব্রেরী।
এখানে নতুন- পুরাতন সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার বই সংরক্ষণ করা রয়েছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কিছু মূল্যবান বই যেমন তুলোট কাগজের পুথি, তাল পাতার লেখা বই, হাতে লেখা কোরআন শরীফসহ উল্লেখযোগ্য নওগাঁ জেলার বলিহারের রাজা কৃষ্ণেন্দ্র রায়ের লেখা দুইটি বই ১ম খন্ড ও দ্বিতীয় খন্ড বইটি এই লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দর্শনার্থীরা এই লাইব্রেরীটি পরিদর্শন করেন।
একটি আদর্শ লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানচর্চা, পঠন এবং গবেষণার প্রধান কেন্দ্র। এটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মেধা বিকাশে এবং সঠিক তথ্য লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লাইব্রেরীটিতে প্রয়োজনের তুলনায় ভালো মানের বইয়ের সংখ্যা কম। এছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে, উইপোকা ও বৃষ্টির পানিতে মূল্যবান বইগুলো নষ্ট হচ্ছে। এখানে আধুনিকতার অভাব ডিজিটাল সেবা, কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের সুবিধা নেই। নিয়মিত নতুন বই কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই।
এখানকার লাইব্রেরীয়ান তুহিন হোসেনের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পারি যে, এগুলো সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে লাইব্রেরীতে আধুনিক কম্পিউটার ও ডিজিটাল ক্যাটালগ সিস্টেম চালু করতে হবে। নিয়মিত নতুন বই ও প্রয়োজনীয় সাময়িকী সংগ্রহ বাড়াতে হবে। পাঠক বাড়াতে প্রচারণা চালাতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি অনুদান বাড়াতে বলে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সহযোগীতা কামনা করেন।
যদি স্থানীয় প্রশাসনসহ সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গরা যদি এগিয়ে আসেন তবেই এই শতবর্ষী লাইব্রেরী ও মূল্যবান বইগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব বলে এখানকার স্থানীয় জনগণ মনে করেন।
