
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাত ও ভোরেও বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এর সঙ্গে মশার উপদ্রব যুক্ত হয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে নগরবাসীর।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে ৭৮ মেগাওয়াট। গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় ৮০৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৭৮ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ২২৯ মেগাওয়াটে।
ওজোপাডিকোর কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, ওই সময়ে শুধু খুলনা জোনেই ১৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও নগরী এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।
এর আগের দিন সোমবার ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৭০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬১৯ মেগাওয়াট। ওই দিন ঘাটতি ছিল ১৫১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে বিদ্যুতের ঘাটতি ৭৮ মেগাওয়াট বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও গৃহিণীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর গরম অসহনীয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস ও বিভিন্ন একাডেমিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ আসিফ বলেন, বিদ্যুৎ কখন যাচ্ছে আর কখন আসছে, তার কোনো ঠিক নেই। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিনের পাশাপাশি গভীর রাত ও ভোরেও লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুতের সঙ্গে মশার উৎপাতও বেড়েছে। সব মিলিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা এলাকার শিক্ষার্থী নাজিয়া সুলতানা বলেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্ন একাডেমিক কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের কারণে বই নিয়ে বসাও কঠিন হয়ে যায়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয় এবং পরে আবার পড়ায় ফিরতে সময় লাগে।
তেতুলতলা এলাকার শিক্ষার্থী উম্মে রায়হানা জাহান বলেন, বিদ্যুতের অবস্থা এখন অনেকটা লুকোচুরি খেলার মতো। আসার কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যাচ্ছে। এতে পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস ও রাতের পড়াশোনা ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির সরবরাহেও সমস্যা হয়, ফলে গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে গরম ও মশার উৎপাত দুটোই অসহনীয় হয়ে ওঠে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে।
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
