Saturday, August 29

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে সিরাত কনফারেন্স ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

​|| নিজস্ব প্রতিবেদক (সিলেট) ||

সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক কালচারাল ফোরামের উদ্যোগে ‘সিরাত কনফারেন্স ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারি-১ এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন।

লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, মানবতার মুক্তির দূত রহমাতুল্লিল আল-আমিন মহানবীর আদর্শে জীবনযাপনই আমাদের জন‍্য কল‍্যাণকর। আমাদেরকে নবীজর আদর্শকে শিখতে হবে এবং সেভাবে চলতে হবে। লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক কালচারাল ফোরামের মাধ‍্যমে সুন্দর ও উন্নত ইসলামিক কালচার প্রতিষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সুন্দর সমাজকাঠামো বিনির্মানে বিশ্ব নবীর জীবনাদর্শে আলোকিত হয়ে আইনের শাসন নয়; ন‍্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শান্তিময় সমাজ গঠনে ছোটদের স্নেহ এবং বড়দের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করতে হবে উল্লেখ করে সন্মানিত অতিথির বক্তব্যে
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাকির হুসাইন বলেন, মহানবী যার নূরের আলোয় সারা পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল, যার উপর নাজিল হয়ছে আসমানি গ্রন্থ আল-কোরআন তিনিই আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)। তাঁর সৃষ্টি না হলে পৃথিবীর কোনকিছুই সৃষ্টি হতোনা। তাই আল্লাহ্ ও রাসুলের জীবন-চরিত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, কারণ আল্লাহ্ ও রাসুলের জীবন হলো উত্তম জীবন ও চরিত্রে গঠনের আদর্শ। আর এবং এই আদর্শকে অনুসরণ করেই উন্নত সমাজ ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. সৈয়দ রাগীব আলী একজন দানবীর, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সেবকই নন; তিনি মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা খুবই উল্লেখযোগ্য এবং প্রশংসনীয়।

সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. তাজ উদ্দিন বলেন, জীবনের প্রতিটি কর্মে রাসুলের জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব‍্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দায়িত্ব অনেক উল্লেখ করে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইসলামিক কালচারাল ফোরাম যে উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে তা বাস্তবায়নে এ ফোরাম এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সৎ মুসলিম হতে হলে কোরআনকে অনুসরণ করতে হবে।

মূখ‍্য আলোচক হিসেবে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবন, কর্ম ও শিক্ষা এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা করেন ড. মো: মুহিবুর রহমান,
সহকারী অধ্যাপক (ইসলামী শিক্ষা) ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। তিনি বলেন, তরুণদেরকে সাবলম্বি, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন‍্য নবীজি ছিলেন খুবই তৎপর। তাই তিনি ব‍্যবসাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তরুণদের ব‍্যবসায়ীদের উদ‍্যোক্তা হবার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ইসলামের আলোকে সফল ব‍্যবসায়ী হবার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।

নবীজির জীবন, আদর্শ ও দিকনির্দেশনা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদের ডিনগণের পক্ষে ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ। সিরাত কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম সিএসই ৬৪তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী ফারদিন আহসান ইফতি, দ্বিতীয় সিএসই ৬৭তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ এবং তৃতীয় সিএসই ৬৪তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন আহমেদ। আর্টিকেল রাইটিং প্রতিযোগিতায় প্রথম বিবিএ ৬৪তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী সাদিয়া আলম, দ্বিতীয় সিএসই ৬৬তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসিফ জাহান আলভি এবং তৃতীয় বিবিএ ৬৬তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী ফাইরুজ হুমায়রা। ফটো ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রথম সিএসই ৬৭তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবা রহমান ফিমা, দ্বিতীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ২৪তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী আবু ইয়াসিন এবং তৃতীয় সিএসই ৬৮তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে হাজেরা। তাছাড়া রচনা প্রতিযোগিতায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোসা. হাবিবা ইয়াসমিন প্রথম, দ্বিতীয় মো. সদরুদ্দিন এবং তৃতীয় ফারজানা চৌধুরী।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. মামুনুর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন, হাফেজ আবু সালেহ রাহী এবং নাশিদ পেশ করেন তাওহীদুল ইসলাম তারেক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও লিডিং ইউনিভার্সিটি ইসলামিক কালচারাল ফোরামের উপদেষ্টা ড. মো. জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠান সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া পরিচালনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটি ইসলামিক কালচারাল ফোরামের সহ-উপদেষ্টা মো. মামুনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ছাত্রকল‍্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক -শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *