
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তাঁর ভাষ্য, খাদ্য নিরাপদ না হলে জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সরকারি খাদ্যগুদামের তদারকি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ৬৪ জেলার গুদাম পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে। মজুতের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো গরমিল, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, সংরক্ষণে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে অনিয়মের তথ্য সামনে আসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘিওরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে না দেখে দেশের অন্য গুদামগুলোতেও একই ধরনের কোনো অনিয়ম আছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনিয়মে সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি মদদদাতা ও সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি চলবে না। সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য নিরাপদ রাখা, সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক।
দেশে সার সংকটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে বিতরণে কোথাও সমন্বয়হীনতা থাকলেও এর কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে প্রবীণ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী তাঁর প্রয়াত পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মরণে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মাখন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি ডা. জিয়াউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. বদরুল আলম চৌধুরী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আমির হামজা ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বকুল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আওয়াল খান, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আযাদ বিপ্লব এবং সাটুরিয়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি বরকত মল্লিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম থেকে জাগীর মেঘশিমুল পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তার উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী।
