
|| ডঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা | রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
আজ থেকে ২০ বছর আগেও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীর পাড়ে দিনমজুরি কিংবা কৃষিকাজ ছিল অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। এখন সেই নদীতেই খাঁচায় মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন স্থানীয়দের অনেকেই। কম জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদন এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় এই উপজেলায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি।
উপজেলার ভূইয়াগাতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফুলজোড় নদীতে দেখা যায় সারিসারি মাছ চাষের খাঁচা। স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও এই এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ করতেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন। বর্তমানে চাষির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ১০০ জনে। তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০টি খাঁচায় এখন মাছ চাষ হচ্ছে। এই কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।
চাষিরা জানান, প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে বাঁশ, ড্রাম, নেট ও জাল ব্যবহার করা হয়। আকারভেদে একটি খাঁচা তৈরি করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এসব খাঁচায় প্রাথমিকভাবে তেলাপিয়ার পোনা ছাড়া হয়। পরবর্তীতে সঠিক খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ৫ মাসেই মাছ বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে প্রায় ১৬৫ টাকা খরচ হয় বলে জানান চাষিরা।
ফুলজোড় নদীতে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের সূচনা হয় ২০১১ সালে। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষ খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে বাঁশ, ড্রাম ও জাল দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের সাফল্য দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে এতে যুক্ত হন। বর্তমানে এটি অনেক পরিবারের প্রধান ও নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। নদীর ২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ করা চাষী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ৬৫টি খাঁচার মালিক লোকমান হোসেন জানান, সঠিকভাবে খাবার দেওয়া এবং নদীর পানির পরিবেশ ভালো থাকলে খাঁচায় দ্রুত মাছ বাড়ে। তবে পানির গুণগত মান নষ্ট হলে চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
সিনিয়র রায়গঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফুলজোড় নদীতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। এতে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আরও সহায়তার আওতায় আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, খাঁচায় মাছ চাষে পানির গুণগত মান পরীক্ষা, মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সঠিক খাবার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধ করা সম্ভব হলে চাষিদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে এবং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
