
|| ডঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা | রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
গরু ছাগলের মাংস, সাধারণত খাসি বা ষাঁড়ের মাংস নামে পরিচিত। যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যার চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, মাংসের স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং সহজলভ্যতা। ছাগল ও ভেড়ার মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস এবং এতে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে আরও প্রিয় হয়ে উঠেছে। শহর ও গ্রামের উভয় জায়গাতেই গরু-মহিষ ছাগল-বেড়ার মাংসের বাজার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যনীয়। উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও এর স্বাদ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে মানুষ ক্রয় করতে বেশি আগ্রহী।রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলোতেও গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়ার মাংসের খাবারের চাহিদা ক্রমাগত মানুষের অন্যতম পছন্দের খাবারে পরিণত হয়েছে।
গ্রামে গরু-ছাগল, মহিষ- ভেড়া, হাঁস-মুরগি পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম, যা শহরের মাংসের বাজারে সরবরাহ করা হয়। এর সাথে যোগ হয়েছে কবুতর ও কোয়েল পাখি পালন। তবে এই বাজারজাতকরণের পদ্ধতি অনেক সময় নিষ্ঠুর এবং অনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা শুধু পশু পরিবহনের জন্য নয়, মানুষের জন্যও নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম থেকে শহরে গরু-ছাগল, মহিষ- ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর- কোয়েল পাখি পরিবহনের জন্য ট্রাক, নছিমন, করিমন, ভুটভুটি, বাসের নিচের বক্স, বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর ও সংকীর্ণ স্থানে গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়া হয়, দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিবেশে থাকার ফলে পশুগুলো প্রচন্ডশারীরিক কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য হয়। কখনও গরম বাতাসের অভাব, কখনও অতি ঠান্ডা এবং অতিরিক্ত গাদাগাদির ফলে অসংখ্য গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর- কোয়েল অসুস্থ হয়ে পড়ে, এমনকি মৃত্যু ঘটে। এই নিষ্ঠুর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর- কোয়েল পাখি পরিবহন করা নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
এর চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হল, এসব মৃত পশু বাজারে, হোটেল বা মাংসের দোকানে নিমেষেই বিক্রিও হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণ মানুষ মৃত অথবা রুগ্ন পশুর মাংস ও তাজা মাংসের পার্থক্য না বুঝে সহজে কিনে নেন এবং নিজের অজান্তেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। এই মাংস খাওয়ার ফলে খাদ্য বিষক্রিয়া, পেটের সংক্রমণ এবং দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক জটিলতার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। এই প্রক্রিয়া শুধু মানুষ ও পশুর ক্ষতির কারণ নয়, এটি বাজার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও কমিয়ে দেয়। এমন খাদ্য নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবসার অভাব সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এই সমস্যার সমাধানে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ পশু বহন উপযোগী নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পশু পরিবহনের সময় তাদের জন্য পর্যাপ্ত স্থান, খাদ্য এবং বিশ্রামের সুযোগ রাখা উচিৎ। মৃত ও রুগ্ন পশু বাজারে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অতিব জরুরি। এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা মৃত অথবা রুগ্ন পশুর মাংস ও তাজা মাংসের পার্থক্য বুঝতে সক্ষম হয়। পশুর মাংসের বাজারকে আরও স্বচ্ছ, মানবিক এবং স্বাস্থ্যকর করতে সরকারি তত্বাবধান, নৈতিক ব্যবসা পদ্ধতি, এবং ভোক্তা সচেতনতা জরুরি। তবেই এই প্রিয় খাদ্য মানুষের কাছে নিরাপদ এবং ন্যায়সঙ্গত থাকবে।
