
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পুলিশি হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা, শিক্ষার্থীদের ওপর মামলা প্রত্যাহার, পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়াম এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। রাতে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর রাতে তাদের মুক্তি দেয় পুলিশ।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মোদি সরকার শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এবং শিক্ষার পেছনে পরিবারগুলোকে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। বিরোধী দল এ বিষয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা চায়।”
এদিকে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর দফতর সংক্রান্ত প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, সরকার সংসদে যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সমাধান খোঁজার চেয়ে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করা এবং ইস্যুটিকে ঝুলিয়ে রাখাই রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য।
