
অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া
আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের মূল কথা ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদ।
মানুষ আল্লাহ তাআলার প্রদর্শিত ইবাদত থেকে সরে গিয়ে শয়তানের প্ররোচনায় তারা বিভিন্ন রকমের পূজা অর্চনা অর্থাৎ শিরকে লিপ্ত হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিলাদ বা জন্ম হয়েছিল বাইতুল্লাহ বা কাবা শরীফের সন্নিকটে আব্দুল মুত্তালিবের বাসভবনে প্রসিদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ গোত্র কোরাইশ বংশে আব্দুল্লাহর ঘরে। জন্মের পূর্বে পিতার ইন্তেকাল, ছয় বছর বয়সে মায়ের ইন্তেকাল। তিনি লালিত পালিত হন দাদা আব্দুল মুত্তালিবের স্নেহ ছায়ায়।
পিতৃ-মাতৃ হারা এতিম বালক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এমন এক সময় এমন, এক যুগে মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম হলো। না আছে পারিবারিক সামাজিক সভ্যতা। না আছে শিক্ষা-দীক্ষার কোনো পরিবেশ।
শিশুকাল থেকে তখনকার সময়ের আইয়ামে জাহেলিয়ার পরিবেশ থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন। মুক্ত রাখতে নিজেকে চেষ্টা করেছেন। শিক্ষা অর্জনে শিক্ষালয় না গিয়ে আক্ষরিক জ্ঞান শিখতে কাউকে শিক্ষক না করেই তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং সর্ব জ্ঞানের অধিকারী। উশৃঙ্খল সমাজে তিনি তথাকথিত দূষিত শিরক যুক্ত শিক্ষা অর্জন না করেও, তিনি একজন সৎ চরিত্র ও সুশৃংখল ব্যক্তিত্ব নিয়ে জীবন গড়ে তুললেন এবং পরিচিত হলেন আল-আমিন নামে। তিনি খুব চিন্তিত কী এক সমাজ ব্যবস্থা? যেখানে মানুষ মানুষের প্রভুর মত অধিকার প্রয়োগ করে। জোর যার মুল্লুক তার। ভালোমন্দ কোনো কিছুর বিচার বিশ্লেষণ নেই। এসব কিছু তার মনকে খুবই পিড়াদায়ক করে তুললো। তিনি কিশোর কাল থেকে চেষ্টা শুরু করলেন অসহায় মানুষকে সহায়তা করা, দুর্বলের প্রতি সহযোগিতা, এবং এতিম বিধবার অধিকার সংরক্ষণ করা। তিনি শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে কিশোরদের কে নিয়ে গঠন করলেন হিলফুল ফুজুল।
জীবন জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত হয়েছেন। তিনি কায়িক পরিশ্রম নশকরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তিনি কাজ করাকে মর্যাদার মনে করেছেন। কোনো কাজকে ছোট মনে করেননি। ব্যবসায়ও তিনি সফল ও সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি কারো উপর বোঝা হয়ে থাকেননি। এইসব লক্ষণে উপলব্ধি হয় যে একজন মহা মানবের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। (চলবে ইনশাল্লাহ)
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কেন্দ্রীয় আমীর, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।
